দিনাজপুর জেলার ২৬টি সেরা দর্শনীয় স্থান লোকেশনসহ ভ্রমন গাইড

দিনাজপুর জেলার ২৬টি সেরা দর্শনীয় স্থান হতে পারে ভ্রমনপিপাসুদের জন্য সেরা স্থান কেননা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী জেলা দিনাজপুর তার সমৃদ্ধ ইতিহাস, নান্দনিক স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। এই জেলায় রয়েছে প্রাচীন মন্দির, মসজিদ, বৌদ্ধ বিহার, রাজবাড়ি, দিঘি ও সবুজ বনভূমির এক অনন্য সমাহার। 
দিনাজপুর-জেলার-২৬টি-সেরা-দর্শনীয়-স্থান-লোকেশনসহ-ভ্রমন-গাইড
বিশেষ করে কান্তজীর মন্দির এর টেরাকোটা শিল্প, রামসাগর জাতীয় উদ্যান এর বিস্তীর্ণ জলরাশি এবং স্বপ্নপুরী এর বিনোদনমূলক পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক নিদর্শন ও আধুনিক পার্কগুলোর সমন্বয়ে দিনাজপুর একটি পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। এই আর্টিকেলে আমরা দিনাজপুর জেলার ২৬টি সেরা দর্শনীয় স্থানকে ক্যাটাগরি অনুযায়ী সাজিয়ে তাদের অবস্থান, দূরত্ব, আকর্ষণীয় দিক, খোলার সময় ও লোকেশনসহ বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেছি, যাতে আপনি সহজেই আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে পারেন।

সূচীপত্রঃ  দিনাজপুর জেলার ২৬টি সেরা দর্শনীয় স্থান লোকেশনসহ ভ্রমন গাইড

দিনাজপুর জেলার ২৬টি সেরা দর্শনীয় স্থান

প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থান

১। কান্তজীর মন্দির

  • অবস্থানঃ কান্তনগর, কাহারোল উপজেলা 
  • দূরত্বঃ ~২০ কিমি (দিনাজপুর সদর থেকে) 
  • আকর্ষণীয় কেনঃ টেরাকোটা শিল্পে নির্মিত অনন্য হিন্দু মন্দির, সূক্ষ্ম কারুকাজ 
  • খোলা থাকেঃ সকাল ৯টা - বিকাল ৫টা 
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Kantaji+Temple+Dinajpur 

২। নয়াবাদ মসজিদ

  • অবস্থানঃ কান্তনগর, কাহারোল উপজেলা 
  • দূরত্বঃ ~২১ কিমি 
  • আকর্ষণীয় কেনঃ মুঘল আমলের ছোট সুন্দর মসজিদ 
  • খোলা থাকেঃ সারাদিন (নামাজের সময় বেশি ভিড়) 
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Nayabad+Mosque+Dinajpur 

৩। দিনাজপুর রাজবাড়ি

  • অবস্থানঃ দিনাজপুর সদর 
  • দূরত্বঃ ~২ কিমি 
  • আকর্ষণীয় কেনঃ প্রাচীন রাজাদের বাসভবন, ঐতিহাসিক স্থাপত্য 
  • খোলা থাকেঃ সকাল - সন্ধ্যা 
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Dinajpur+Rajbari 

৪। সীতাকোট বিহার

  • অবস্থানঃ নবাবগঞ্জ উপজেলা 
  • দূরত্বঃ ~৫০ কিমি 
  • আকর্ষণীয় কেনঃ প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন 
  • খোলা থাকেঃ সকাল ৯টা - বিকাল ৫টা 
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Sitakot+Bihar 

৫। সুরা মসজিদ

  • অবস্থানঃ ঘোড়াঘাট উপজেলা 
  • দূরত্বঃ ~৪৫ কিমি 
  • আকর্ষণীয় কেনঃ প্রাচীন স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব 
  • খোলা থাকেঃ সারাদিন 
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Sura+Mosque+Dinajpur 

৬। চেহেলগাজি মসজিদ ও মাজার

  • অবস্থানঃ দিনাজপুর সদর 
  • দূরত্বঃ ~৩ কিমি 
  • আকর্ষণীয় কেনঃ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব 
  • খোলা থাকেঃ সারাদিন 
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Chehelgazi+Mosque 

৭। গোবিন্দস্বামী মন্দির

  • অবস্থানঃ দিনাজপুর সদর 
  • দূরত্বঃ ~৩-৪ কিমি 
  • আকর্ষণীয় কেনঃ ঐতিহ্যবাহী হিন্দু মন্দির 
  • খোলা থাকেঃ সকাল - সন্ধ্যা 
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Gobindaswami+Temple 

৮। ঘোড়াঘাট দুর্গ

  • অবস্থানঃ ঘোড়াঘাট উপজেলা 
  • দূরত্বঃ ~৪৫ কিমি 
  • আকর্ষণীয় কেনঃ প্রাচীন দুর্গ ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান 
  • খোলা থাকেঃ সকাল - সন্ধ্যা 
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Ghoraghat+Fort 

৯। ঘুঘুডাঙ্গা জমিদার বাড়ী

  • অবস্থানঃ বীরগঞ্জ উপজেলা 
  • দূরত্বঃ ~২৫ কিমি 
  • আকর্ষণীয় কেনঃ জমিদার আমলের স্থাপত্য 
  • খোলা থাকেঃ সকাল - সন্ধ্যা 
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Ghughudanga+Zamindar+Bari 

১০। রাজারামপুর রোজ মেরি চার্চ

  • অবস্থানঃ রাজারামপুর, দিনাজপুর সদর 
  • দূরত্বঃ ~৫ কিমি 
  • আকর্ষণীয় কেনঃ খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থাপনা 
  • খোলা থাকেঃ সকাল - বিকাল 
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Rajaram+Rose+Mary+Church 

প্রাকৃতিক ও মনোরম পরিবেশ

১১। রামসাগর জাতীয় উদ্যান

  • অবস্থানঃ তাজপুর, দিনাজপুর সদর 
  • দূরত্বঃ ~৮ কিমি 
  • আকর্ষণীয় কেনঃ বাংলাদেশের বৃহত্তম কৃত্রিম দীঘি, বনাঞ্চল 
  • খোলা থাকেঃ সকাল ৬টা - সন্ধ্যা ৬টা 
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Ramsagar+National+Park 

১২। সুখ সাগর (ইকো পার্ক)

  • অবস্থানঃ দিনাজপুর সদর (স্থানীয় এলাকা) 
  • দূরত্বঃ ~৬-৮ কিমি 
  • আকর্ষণীয় কেনঃ লেক, সবুজ পরিবেশ 
  • খোলা থাকেঃ সকাল - সন্ধ্যা 
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Sukh+Sagar+Dinajpur 

১৩। ধর্মপুর শালবন

  • অবস্থানঃ বিরল উপজেলা, ধর্মপুর ইউনিয়ন 
  • দূরত্বঃ ~২৫ কিমি 
  • আকর্ষণীয় কেনঃ শালবন, পিকনিক স্পট 
  • খোলা থাকেঃ সারাদিন 
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Dharmapur+Salbon 

১৪। মোহনপুর রাবার ড্যাম

  • অবস্থানঃ বিরল উপজেলা 
  • দূরত্বঃ ~৩০ কিমি 
  • আকর্ষণীয় কেনঃ পানি প্রবাহ ও প্রকৃতি 
  • খোলা থাকেঃ সারাদিন 
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Mohanpur+Rubber+Dam 

১৫। লিচু বাগান

  • অবস্থানঃ দিনাজপুর সদর ও আশেপাশের এলাকা 
  • দূরত্বঃ ~৫-১৫ কিমি 
  • আকর্ষণীয় কেনঃ মৌসুমি লিচুর বাগান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য 
  • খোলা থাকেঃ মৌসুমভেদে (মে-জুন) 
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Dinajpur+Litchi+Garden 

পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র

১৬। স্বপ্নপুরী (পিকনিক স্পট)

  • অবস্থানঃ আফতাবগঞ্জ, নবাবগঞ্জ উপজেলা
  • দূরত্বঃ ~৫২ কিমি জেলা সদর থেকে
  • আকর্ষণীয় কেনঃ থিম পার্ক, ভাস্কর্য, পিকনিক স্পট, নৌকা ভ্রমণ
  • খোলা থাকেঃ সকাল ৯টা - রাত ৮টা
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Shopnopuri+Dinajpur

১৭। নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান

  • অবস্থানঃ নবাবগঞ্জ উপজেলা
  • দূরত্বঃ ~৫০ কিমি
  • আকর্ষণীয় কেনঃ বনাঞ্চল, বন্যপ্রাণী, পিকনিক স্পট
  • খোলা থাকেঃ সকাল ৮টা - সন্ধ্যা ৬টা
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Nawabganj+National+Park+Dinajpur

১৮। সিংড়া জাতীয় উদ্যান

  • অবস্থানঃ বিরল উপজেলা (সিংড়া বনাঞ্চল)
  • দূরত্বঃ ~৩০-৩৫ কিমি
  • আকর্ষণীয় কেনঃ প্রাকৃতিক বন, পিকনিক ও ঘোরাঘুরি
  • খোলা থাকেঃ সকাল - সন্ধ্যা
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Singra+National+Park

১৯। বীরগঞ্জ জাতীয় উদ্যান

  • অবস্থানঃ বীরগঞ্জ উপজেলা
  • দূরত্বঃ ~২৫-৩০ কিমি
  • আকর্ষণীয় কেনঃ বনাঞ্চল, সবুজ পরিবেশ
  • খোলা থাকেঃ সকাল - সন্ধ্যা
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Birganj+Park+Dinajpur

২০। শেখ রাসেল ন্যাশনাল পার্ক

  • অবস্থানঃ দিনাজপুর সদর (বা আশেপাশের এলাকা)
  • দূরত্বঃ ~৫-১০ কিমি
  • আকর্ষণীয় কেনঃ আধুনিক পার্ক, পরিবারিক বিনোদন
  • খোলা থাকেঃ সকাল ৯টা - সন্ধ্যা ৭টা
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Sheikh+Russel+Park+Dinajpur

অন্যান্য স্থান

২১। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

  • অবস্থানঃ বাসুনিয়া, দিনাজপুর সদর
  • দূরত্বঃ ~১০ কিমি
  • আকর্ষণীয় কেনঃ সবুজ ক্যাম্পাস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ
  • খোলা থাকেঃ সকাল - বিকাল (অফিস সময়)
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=HSTU+Dinajpur

২২। দীপশিখা মেটি স্কুল

  • অবস্থানঃ দিনাজপুর সদর
  • দূরত্বঃ ~৫-৮ কিমি
  • আকর্ষণীয় কেনঃ ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কার্যক্রম
  • খোলা থাকেঃ অফিস সময়
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Dipshikha+METI+School

২৩। হিলি স্থলবন্দর

  • অবস্থানঃ হিলি, হাকিমপুর উপজেলা
  • দূরত্বঃ ~৬৫ কিমি
  • আকর্ষণীয় কেনঃ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত, বাণিজ্য কার্যক্রম
  • খোলা থাকেঃ অফিস সময়
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Hili+Land+Port

২৪। গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ

  • অবস্থানঃ দিনাজপুর শহর
  • দূরত্বঃ ~২-৩ কিমি
  • আকর্ষণীয় কেনঃ ঐতিহাসিক মাঠ, জাতীয় অনুষ্ঠান
  • খোলা থাকেঃ সারাদিন
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Gore+Shahid+Boro+Math

২৫। ঈদগাহ মাঠ

  • অবস্থানঃ দিনাজপুর সদর
  • দূরত্বঃ ~২-৪ কিমি
  • আকর্ষণীয় কেনঃ ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানস্থল
  • খোলা থাকেঃ সারাদিন
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Eidgah+Field+Dinajpur

২৬। জিরো পয়েন্ট

  • অবস্থানঃ দিনাজপুর শহরের কেন্দ্র
  • দূরত্বঃ ০ কিমি (শহরের কেন্দ্রবিন্দু)
  • আকর্ষণীয় কেনঃ শহরের গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন, মিলনকেন্দ্র
  • খোলা থাকেঃ সারাদিন
  • লোকেশনঃ https://maps.google.com/?q=Zero+Point+Dinajpur

দিনাজপুর জেলার বিখ্যাত খাবার ও কোথায় পাওয়া যায়

১। লিচু (দিনাজপুরের বিখ্যাত ফল)

বিবরণঃ দিনাজপুরের লিচু সারা বাংলাদেশে বিখ্যাত মিষ্টি, রসালো ও সুগন্ধযুক্ত 

কোথায় পাওয়া যায়: 

  • দিনাজপুর সদর এলাকার লিচু বাগান 
  • বিরল, বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলায় 

সেরা সময়ঃ মে - জুন 

২। দিনাজপুরের কাচ্চি ও বিরিয়ানি

বিবরণঃ সুগন্ধি চাল, মাংস ও মসলার বিশেষ রান্না 

কোথায় পাওয়া যায়ঃ 

  • দিনাজপুর শহর এর বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্ট 

৩। পিঠা (ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা)

বিবরণঃ ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পিঠা, বিশেষ করে শীতকালে জনপ্রিয় 

কোথায় পাওয়া যায়ঃ 

  • গ্রামীণ হাট ও দিনাজপুর সদর বাজার 

৪। দেশি মাছের ভর্তা ও তরকারি

বিবরণঃ টেংরা, শিং, মাগুরসহ বিভিন্ন দেশি মাছ দিয়ে তৈরি 

কোথায় পাওয়া যায়ঃ 

  • রামসাগর জাতীয় উদ্যান আশেপাশের খাবারের দোকান 
  • স্থানীয় হোটেল 

৫। গরুর মাংস ভুনা

বিবরণঃ মসলাদার ও ঘন ঝোলের ঐতিহ্যবাহী রান্না 

কোথায় পাওয়া যায়ঃ 

  • শহরের রেস্টুরেন্ট ও হোটেল 

৬। মিষ্টি দই

বিবরণঃ ঘন দুধ দিয়ে তৈরি সুস্বাদু দই 

কোথায় পাওয়া যায়ঃ

  • দিনাজপুর শহর এর মিষ্টির দোকান 

৭। রসমালাই ও ছানার মিষ্টি

বিবরণঃ দুধ ও ছানার তৈরি জনপ্রিয় মিষ্টান্ন 

কোথায় পাওয়া যায়ঃ 

  • স্থানীয় মিষ্টির দোকান 

৮। মুড়ি-মাখা ও ঝালমুড়ি

বিবরণঃ হালকা নাস্তা, রাস্তার পাশে জনপ্রিয় 

কোথায় পাওয়া যায়ঃ 

  • শহরের রাস্তার পাশ ও বাজার 

৯। হাঁসের মাংস ভুনা

বিবরণঃ গ্রামীণ স্বাদের বিশেষ খাবার 

কোথায় পাওয়া যায়ঃ 

  • গ্রামাঞ্চল ও স্থানীয় খাবারের হোটেল 

১০। খেজুরের গুড় ও গুড়ের মিষ্টি

বিবরণঃ শীতকালীন ঐতিহ্যবাহী খাবার 

কোথায় পাওয়া যায়ঃ

  • গ্রামীণ বাজার ও হাট 

১১। দেশি মুরগির ঝোল

বিবরণঃ গ্রামবাংলার স্বাদের জনপ্রিয় খাবার 

কোথায় পাওয়া যায়ঃ

  • স্থানীয় হোটেল ও গ্রামাঞ্চল 

১২। চা ও দুধ চা

বিবরণঃ ঘন দুধ চা, রাস্তার পাশে জনপ্রিয় 

কোথায় পাওয়া যায়ঃ

  • শহরের চায়ের দোকান 

ভ্রমণ টিপস

  • লিচু খেতে চাইলে অবশ্যই মৌসুমে (মে–জুন) ভ্রমণ করুন 
  • গ্রামীণ এলাকায় গেলে আসল দেশি স্বাদের খাবার পাওয়া যায় 
  • মিষ্টির জন্য শহরের পুরনো দোকানগুলো বেশি ভালো 

সংক্ষেপেঃ দিনাজপুর শুধু দর্শনীয় স্থানেই নয় খাবারের বৈচিত্র্যেও সমৃদ্ধ। এখানে ভ্রমণে গেলে স্থানীয় খাবারগুলো অবশ্যই ট্রাই করা উচিত।

দিনাজপুর জেলার ২৬টি সেরা দর্শনীয় স্থান কেন ভ্রমণ করবেন

১। ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক সমৃদ্ধি

দিনাজপুর জেলায় রয়েছে বহু প্রাচীন নিদর্শন। যেমন কান্তজীর মন্দির, সীতাকোট বিহার ইত্যাদি যা ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয়।

২। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শান্ত পরিবেশ

রামসাগর জাতীয় উদ্যান, শালবন ও সবুজ গ্রামীণ পরিবেশ ভ্রমণকারীদের মানসিক প্রশান্তি দেয়।

৩। বিনোদন ও পারিবারিক ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত

স্বপ্নপুরী এবং অন্যান্য পার্কগুলো পরিবারসহ ভ্রমণের জন্য দারুণ জায়গা।

৪। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য

এখানে মসজিদ, মন্দির, চার্চসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা রয়েছে, যা বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতি তুলে ধরে।

৫। বিখ্যাত লিচু ও স্থানীয় খাবারের স্বাদ

দিনাজপুরের লিচু দেশের অন্যতম সেরা। এছাড়া দেশি খাবার ও মিষ্টির স্বাদ ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।

দিনাজপুর জেলার ২৬টি সেরা দর্শনীয় স্থান ভ্রমণের সীমাবদ্ধতা

১। পর্যটন সুবিধার সীমিততা

অনেক দর্শনীয় স্থানে এখনও উন্নত পর্যটন সুবিধা (রেস্টুরেন্ট, গাইড, টয়লেট) কম।

২। যাতায়াত ব্যবস্থা কিছু ক্ষেত্রে দুর্বল

দূরবর্তী এলাকা যেমন গ্রাম বা বনাঞ্চলে যেতে স্থানীয় যানবাহনের উপর নির্ভর করতে হয়।

৩। হোটেল ও আবাসনের সীমাবদ্ধতা

উন্নত মানের হোটেল সংখ্যা তুলনামূলক কম, বিশেষ করে পর্যটন স্পটের কাছাকাছি।

৪। মৌসুমভিত্তিক ভ্রমণ সমস্যা

বর্ষাকালে কিছু রাস্তা কাদাময় হয়ে যায় ফলে যাতায়াতে অসুবিধা হয়।

৫। তথ্য ও গাইডের অভাব

অনেক জায়গার সঠিক তথ্য বা সাইনবোর্ড না থাকায় নতুন ভ্রমণকারীদের জন্য সমস্যা হতে পারে।

সংক্ষেপে-দিনাজপুর ভ্রমণ মানে ইতিহাস, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির এক চমৎকার সমন্বয়। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা করলে এই জেলা আপনাকে দেবে একটি অসাধারণ ও স্মরণীয় ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। 

আরও পড়ুনঃ নাটোর জেলার ২৫টি সেরা দর্শনীয় স্থান লোকেশনসহ ভ্রমন গাইড

শেষকথাঃ  দিনাজপুর জেলার ২৬টি সেরা দর্শনীয় স্থান লোকেশনসহ ভ্রমন গাইড

 দিনাজপুর জেলার ২৬টি সেরা দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ মানে শুধুমাত্র একটি জেলা ঘুরে দেখা নয় বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির এক অনন্য মেলবন্ধনকে কাছ থেকে অনুভব করা। সীতাকোট বিহার এর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, নয়াবাদ মসজিদ এর ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একসাথে এই জেলাকে করে তুলেছে ভ্রমণের জন্য আদর্শ।
যদিও কিছু স্থানে পর্যটন সুবিধা এখনও সীমিত, তবুও সঠিক পরিকল্পনা, সময় নির্বাচন এবং স্থানীয় তথ্য জানা থাকলে দিনাজপুরে ভ্রমণ হবে নিঃসন্দেহে স্মরণীয়। পরিবার, বন্ধু বা একক ভ্রমণ সব ক্ষেত্রেই এই জেলার বৈচিত্র্যময় স্থানগুলো আপনাকে নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। অতএব, আপনি যদি ইতিহাস, প্রকৃতি ও বিনোদনের সমন্বিত অভিজ্ঞতা খুঁজে থাকেন, তাহলে দিনাজপুর হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণ গন্তব্য। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্মার্ট আইটি এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Abir Hossain
Md. Salim Reza
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও স্মার্ট আইটিসেবার এডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ফ্রিল্যান্সিং গাইড, লাইফস্টাইল, প্রবাস জীবন ও ভ্রমণ বিষয়ক, টেকনোলজি ইত্যাদি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। নিজেকে একজন দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে গড়ে তোলাই তিনার লক্ষ্য।