ব্লগার ওয়েবসাইটে থিম সেটিং ও কাস্টমাইজেশন-নিয়মকানুনসহ

ব্লগার ওয়েবসাইটে থিম সেটিং ও কাস্টমাইজেশন কাজটি মূলত ওয়েবসাইটের ডিজাইন ও লে-আউটের কাঠামোর জন্য করা হয়। ওয়েবসাইট দেখতে কেমন হবে, রং, ফন্ট, মেনু, পোস্ট দেখানোর স্টাইল সবকিছুই থিম ঠিক করে দেয়। ব্লগার ওয়েবসাইটে থিম হল একটি XML ফাইল। একটা থিমের মাধ্যমে সাধারণত যেসব বিষয় নির্ধারিত হয় ওয়েবসাইটের রং ও ফন্ট, হেডার, ফুটার ও মেনু ডিজাইন, পোস্ট ও পেজের লে-আউট, মোবাইল ও ডেস্কটপ ভিউ, লোডিং স্পিড ও ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ইত্যাদি। 

ব্লগার-ওয়েবসাইটে-থিম-সেটিং-ও-কাস্টমাইজেশন-নিয়মকানুনসহ

এই লেখাতে আমরা জানব ওয়েবসাইট থিম কি উদাহরণসহ, থিমে কিকি থাকে, কিভাবে ওয়েবসাইট থিম সেট করতে হয়, কিভাবে ওয়েবসাইট থিম কাস্টমাইজ করতে হয়, একটি ভালো থিমের বৈশিষ্ট্য/গুরুত্ব ইত্যাদি।

ওয়েবসাইট থিম কি, কাকে বলে

ওয়েবসাইট থিম হলো একটি প্রস্তুত ডিজাইন কাঠামো, যা একটি ওয়েবসাইটের দেখতে কেমন হবে, কোন অংশ কোথায় থাকবে, কিভাবে কনটেন্ট দেখানো হবে এই সবকিছু একসাথে নির্ধারণ করে দেয়। আরও সহজ করে বললে-থিম হলো ওয়েবসাইটের পোশাক ও নকশা। যেমন মানুষ একই হলেও জামা-কাপড় বদলালে যেমন আলাদা লাগে, ঠিক তেমনই কনটেন্ট একই রেখে থিম বদলালে ওয়েবসাইটের চেহারা পুরো বদলে যায়।

থিম কি তা বাস্তব জীবনের উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হল

উদাহরণ-১. বাড়ি ও ইন্টেরিয়র ডিজাইন

ধরুন আপনার একটি বাড়ি আছে-এটাই আপনার কনটেন্ট। একবার আপনি বাড়ির ভেতর সাধারণ ডিজাইন করলেন আবার একবার মডার্ন ডিজাইন করলেন বাড়ি একই কিন্তু ইন্টেরিয়র ডিজাইন বদলানোর কারণে অনুভূতি সম্পূর্ণ আলাদা। এই ইন্টেরিয়র ডিজাইনটাই হলো ওয়েবসাইট থিম।

উদাহরণ-২. পোশাক

একজন মানুষ অফিসের জন্য ফরমাল পোশাক, বিয়েতে শেরওয়ানি আবার খেলাধুলায় স্পোর্টস ড্রেস মানুষ একই কিন্তু পোশাক আলাদা। ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে থিম = পোশাক আর লেখা/ভিডিও = মানুষ।

ওয়েবসাইটে থিমের বাস্তব উদাহরণ

ধরা যাক আপনি একই কনটেন্ট দিয়ে ৩টি ভিন্ন থিম ব্যবহার করছেন

  • নিউজ ওয়েবসাইট থিম-বড় হেডলাইন, একাধিক কলাম, ব্রেকিং নিউজ সেকশন উদাহরণঃ প্রথম আলো টাইপ ডিজাইন
  • টেক ব্লগ থিম-ক্লিন ডিজাইন, কোড ব্লক, ডার্ক/লাইট মোড উদাহরণঃ টেক টিউটোরিয়াল ব্লগ
  • কৃষি বিষয়ক ব্লগ থিম-সবুজ রঙের আধিক্য, বড় ছবি, সহজ ভাষার লে-আউট উদাহরণঃ কৃষি পরামর্শমূলক ওয়েবসাইট কনটেন্ট ভিন্ন না হলেও থিম ভিন্ন হলে উপস্থাপন একদম বদলে যায়।

থিম ছাড়া কি ওয়েবসাইট হয়

প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব কিন্তু বাস্তবে থিম ছাড়া ওয়েবসাইট মানে হলো ডিজাইনহীন ওয়েবসাইট, ব্যবহারকারী বিরক্ত হয় SEO ও ভিজিটর কমে যায় তাই বলা যায় থিম হলো ওয়েবসাইটের আত্মা।

সংক্ষেপে মনে রাখুন

  • থিম ওয়েবসাইটের ডিজাইন ও কাঠামো নির্ধারণ করে
  • কনটেন্ট আলাদা, থিম আলাদা
  • ভালো থিম = সুন্দর ডিজাইন + ভালো ইউজার এক্সপেরিয়েন্স
  • থিম বদলালে ওয়েবসাইট নতুন রূপ পায়

ওয়েবসাইট থিমে কি কি থাকে

একটি থিম সাধারণত নিচের বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে তা নিচে দেখানো হল। মনে রাখতে হবে কনটেন্ট লেখা, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি থিমের অংশ নয় থিম শুধু কনটেন্টকে কীভাবে দেখাবে সেটাই ঠিক করে।

  • রং
  • ফন্ট ও লেখা দেখানোর স্টাইল
  • পেজের লে-আউট
  • মেনু ও নেভিগেশন
  • মোবাইল ও ট্যাব ভিউ
  • পোস্ট বা পেজ দেখানোর ধরন
  • ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিডের উপর প্রভাব

আরও পড়ুনঃ ওয়েবসাইট থিম কি এবং ওয়েবসাইট থিম এর প্রয়োজনীয়তা

ব্লগার ওয়েবসাইটে থিম সেটিং ও কাস্টমাইজেশন 

ব্লগার ওয়েবসাইটে থিম সেটিং ও কাস্টমাইজেশন করে সহজেই একটি এসইও ফ্রেন্ডলি পাঠকবান্ধব ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। ব্লগার একটি জনপ্রিয় ও সহজ ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম যেখানে কোডিং জ্ঞান ছাড়াই একটি সুন্দর ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। তবে একটি ব্লগকে আকর্ষণীয়, ব্যবহারবান্ধব ও প্রফেশনাল করে তুলতে থিম সেট করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। ব্লগারে সাধারণত ২টি সহজ ও কার্যকর উপায়ে থিম সেট করা যায়। নিচে প্রতিটি পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

পদ্ধতি-১. ব্লগারের ডিফল্ট থিম ব্যবহার করে

এই পদ্ধতিটি বিশেষ করে নতুন ব্লগারদের জন্য সবচেয়ে সহজ, নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত। ব্লগার নিজস্বভাবে কিছু প্রি-ডিজাইন করা থিম সরবরাহ করে যেগুলো সরাসরি ব্যবহার করা যায়।

ধাপসমূহঃ

  • প্রথমে আপনার ব্রাউজার থেকে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
  • আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন
  • যদি একাধিক ব্লগ থাকে তাহলে যেই ব্লগে থিম সেট করতে চান সেটি সিলেক্ট করুন
  • ড্যাশবোর্ডের বাম পাশের মেনু থেকে থিম অপশনে ক্লিক করুন
  • এখানে আপনি ব্লগারের বিভিন্ন ডিফল্ট থিম দেখতে পাবেন
  • যেকোনো থিমের নিচে থাকা কাস্টমাইজ অপশনে ক্লিক করে রং, ফন্ট ও লে-আউট সামান্য পরিবর্তন করতে পারবেন
  • পছন্দের থিম সিলেক্ট করে সেভ/অ্যাপলাই বাটনে ক্লিক করুন

এই পদ্ধতির সুবিধা

  • কোনো এক্যএমএল বা কোডিং দরকার নেই
  • থিম ভাঙার ঝুঁকি নেই
  • মোবাইল ও ডেস্কটপ উভয়ের জন্য উপযোগী
  • নতুনদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান

তাই যারা নতুন ব্লগ শুরু করছেন তাদের জন্য ডিফল্ট থিম দিয়েই শুরু করাই উত্তম।

পদ্ধতি-২. কাস্টম থিম আপলোড করে

যারা ওয়েবসাইটকে আরও আধুনিক, ইউনিক ও প্রফেশনাল লুক দিতে চান তারা সাধারণত কাস্টম থিম ব্যবহার করেন। এই থিমগুলো এক্যএমএল ফাইল আকারে থাকে এবং ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা যায়।

ধাপসমূহঃ

  • প্রথমে Blogger ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করুন
  • বাম পাশের মেনু থেকে থিম অপশনে ক্লিক করুন
  • থিম পেজের উপরের ডান পাশে থাকা ▼ (ড্রপডাউন) আইকনে ক্লিক করুন
  • সেখান থেকে রি-স্টোর অপশনটি নির্বাচন করুন
  • একটি পপ-আপ উইন্ডো আসবে সেখানে আপলোড বাটনে ক্লিক করুন
  • আপনার কম্পিউটার থেকে ডাউনলোড করা XML থিম ফাইলটি সিলেক্ট করুন
  • ফাইল আপলোড সম্পন্ন হলে সেভ বাটনে ক্লিক করুন
  • কিছু সেকেন্ডের মধ্যেই আপনার ব্লগে নতুন থিম সক্রিয় হয়ে যাবে।

কাস্টম থিম ব্যবহারের আগে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

  • নতুন থিম আপলোডের আগে অবশ্যই পুরনো থিমের ব্যাকআপ রাখুন
  • থিমটি মোবাইল রেসপনসিভ কিনা নিশ্চিত করুন
  • SEO ফ্রেন্ডলি এবং ফাস্ট লোডিং থিম ব্যবহার করুন
  • অপ্রয়োজনীয় বা ক্ষতিকর কোড আছে কিনা যাচাই করুন

ব্লগার ওয়েবসাইটে থিম সেট করা খুবই সহজ একটি কাজ তবে সঠিক পদ্ধতি ও সঠিক থিম নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • দ্রুত শুরু করতে চাইলে → ডিফল্ট থিম
  • প্রফেশনাল ও আলাদা লুক চাইলে → কাস্টম XML থিম

একটি ভালো থিম আপনার ব্লগের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি ভিজিটর ধরে রাখতেও বড় ভূমিকা রাখে।

ব্লগার ওয়েবসাইটে থিম সেটিং ও কাস্টমাইজেশন কিভাবে করব-একটি সম্পূর্ণ গাইডলাইন

ব্লগার প্ল্যাটফর্মে একটি সুন্দর ও কার্যকর ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে থিম কাস্টমাইজেশন জানা অত্যন্ত জরুরি। সঠিকভাবে থিম কাস্টমাইজ করলে আপনার ব্লগ হবে আকর্ষণীয়, ব্যবহারকারী-বান্ধব এবং সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজড। নিচে ব্লগার থিম কাস্টমাইজেশনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সহজ ও বর্ণণামূলকভাবে তুলে ধরা হলো।

১. রং কাস্টমাইজেশন

প্রথমেই থিমের রঙ ঠিক করতে হবে, কারণ রঙই ওয়েবসাইটের প্রথম ইমপ্রেশন তৈরি করে। সঠিক কালার স্কিম চোখে আরাম দেয় এবং কনটেন্ট পড়তে সহজ করে। কিভাবে করবেন-

  • ব্লগার ড্যাশবোর্ড → থিম → কাস্টমাইজ এ ক্লিক করুন
  • ব্যাকগ্রাউন্ড ও এডভান্স অপশন থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড, হেডার ও টেক্সটের রঙ নির্বাচন করুন
  • হালকা ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে গাঢ় টেক্সট ব্যবহার করুন
  • ২-৩টির বেশি প্রধান রঙ ব্যবহার না করাই ভালো

২. ফন্ট ও লেখা দেখানোর স্টাইল

পাঠযোগ্য ফন্ট না হলে ভিজিটর কনটেন্ট পড়তে আগ্রহ হারায়। পরিষ্কার ও সহজ ফন্ট পাঠকের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়। কিভাবে কাস্টমাইজ করবেন-

  • থিম → কাস্টমাইজ → এডভান্স থেকে ফন্ট নির্বাচন করুন
  • হেডিং ও বডি টেক্সটের জন্য আলাদা ফন্ট সেট করুন
  • ফন্ট সাইজ ও লাইন স্পেসিং ঠিক করুন
  • খুব স্টাইলিশ বা ভারী ফন্ট ব্যবহার এড়িয়ে চলুন

৩. পেজের লে-আউট (হেডার, সাইডবার, ফুটার)

একটি গোছানো লে-আউট ওয়েবসাইটকে করে তোলে প্রফেশনাল। অপ্রয়োজনীয় উইজেট বাদ দিলে সাইট হালকা ও দ্রুত হয়। কিভাবে লে-আউট ঠিক করবেন-

  • লে-আউট অপশনে গিয়ে হেডার, সাইডবার ও ফুটার সাজান
  • হেডারে লোগো, মেনু ও সার্চ বক্স রাখুন
  • সাইডবারে প্রয়োজনীয় উইজেট (রিসেন্ট পোস্ট, পপুলার পোস্ট) যুক্ত করুন
  • ফুটারে অ্যাবাউট, কনট্যাক্ট, প্রাইভেসি পলিসি লিংক যোগ করুন

৪. মেনু ও নেভিগেশন কাস্টমাইজেশন

ভালো নেভিগেশন মানেই ভিজিটরের সুবিধা। সহজ নেভিগেশন ভিজিটরকে বেশি সময় সাইটে রাখে। কিভাবে মেনু তৈরি করবেন-

  • লে-আউট → পেজেস অথবা লিনক লিস্ট উইজেট ব্যবহার করুন
  • ক্যাটাগরি ও গুরুত্বপূর্ণ পেজ যুক্ত করুন
  • ড্রপডাউন মেনু ব্যবহার করে কনটেন্ট সাজান
  • মেনু আইটেম ছোট ও স্পষ্ট রাখুন

৫. মোবাইল ও ট্যাব ভিউ (রেসপন্সিভ ডিজাইন)

মোবাইল ব্যবহারকারীকে উপেক্ষা করলে ব্লগ সফল হয় না। রেসপনসিভ ডিজাইন SEO ও ইউজার এক্সপেরিয়েন্স বাড়ায়। কিভাবে নিশ্চিত করবেন-

  • থিম → কাস্টমাইজ → মোবাইল অপশন চেক করুন
  • মোবাইল ভিউতে ফন্ট ও মেনু ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে কিনা দেখুন
  • বড় ইমেজ ও অপ্রয়োজনীয় এলিমেন্ট কমান
  • পিভিউ করে বিভিন্ন ডিভাইসে টেস্ট করুন

৬. পোস্ট বা পেজ দেখানোর ধরন

পোস্ট সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা পাঠকের আগ্রহ বাড়ায়। সুন্দর পোস্ট লেআউট মানেই বেশি এনগেজমেন্ট। কিভাবে কাস্টমাইজ করবেন-

  • ফিচারড ইমেজ সঠিক সাইজে ব্যবহার করুন
  • রিড মোর বাটন যুক্ত করুন
  • পোস্টের মধ্যে হেডিং, ইমেজ ও স্পেসিং বজায় রাখুন
  • গ্রিড বা লিস্ট ভিউ থিম অনুযায়ী নির্বাচন করুন

৭. ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিডের উপর প্রভাব

থিম কাস্টমাইজেশন সরাসরি সাইটের গতি নিয়ন্ত্রণ করে। দ্রুত লোড হওয়া ব্লগ Google ও ভিজিটর দু’জনের কাছেই প্রিয়। স্পিড ঠিক রাখতে করণীয়-

  • অপ্রয়োজনীয় উইজেট ও স্ক্রিপ্ট রিমুভ করুন
  • হালকা ও মিনিমাল ডিজাইন ব্যবহার করুন
  • ভারী ফন্ট ও অতিরিক্ত অ্যানিমেশন এড়িয়ে চলুন
  • ইমেজ কমপ্রেস করে আপলোড করুন

ব্লগার ওয়েবসাইটে থিম সেটিং ও কাস্টমাইজেশন মানে শুধু ডিজাইন পরিবর্তন নয় এটি একটি কৌশলগত প্রক্রিয়া। সঠিকভাবে কালার স্কিম, ফন্ট, লে-আউট, নেভিগেশন, রেস্পনসিভ ডিজাইন, পোস্ট ডিসপ্লে এবং লোডিং স্পিড কাস্টমাইজ করলে আপনার ব্লগ হবে আকর্ষণীয়, ব্যবহারকারী-বান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদে সফল। সময় নিয়ে সচেতনভাবে থিম কাস্টমাইজ করলেই একটি সাধারণ ব্লগ রূপ নেয় পেশাদার ওয়েবসাইটে।

একটি ভালো থিমের বৈশিষ্ট্য/গুরুত্ব

একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগের সাফল্যের পেছনে থিমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো থিম শুধু সাইটকে সুন্দরই করে না বরং ভিজিটর ধরে রাখা, দ্রুত লোড হওয়া এবং সার্চ ইঞ্জিনে ভালো র‌্যাংক পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। একটি আদর্শ থিমের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

১. Mobile Responsive (মোবাইল রেসপনসিভ)

বর্তমান সময়ে অধিকাংশ ব্যবহারকারী মোবাইল ফোন দিয়ে ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে। তাই একটি ভালো থিম অবশ্যই মোবাইল রেসপনসিভ হতে হবে। মোবাইল রেসপনসিভ থিম না হলে ভিজিটর দ্রুত সাইট ছেড়ে চলে যায় (Bounce Rate বেড়ে যায়)। মোবাইল রেসপনসিভ থিমের সুবিধাঃ

  • যেকোনো ডিভাইস (মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ) অনুযায়ী ডিজাইন নিজে থেকেই মানিয়ে নেয়
  • স্ক্রল, মেনু ও লেখা পড়তে কোনো সমস্যা হয় না
  • ইউজার এক্সপেরিয়েন্স উন্নত হয়
  • গুগোল মোবাইল - ফ্রেন্ডলি টেস্ট এ ভালো স্কোর পাওয়া যায়

২. দ্রুত লোডিং

ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড এখন গুগোল র‌্যাংকিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। একটি ভালো থিম অবশ্যই ফাস্ট লোডিং হতে হবে। ধীরগতির থিম হলে ভিজিটর বিরক্ত হয়ে সাইট ছাড়ে এবং সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাংক কমে যায়। ফাস্ট লোডিং থিমের বৈশিষ্ট্য-

  • হালকা ও অপ্টিমাইজড কোড ব্যবহার করা
  • অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিপ্ট ও ভারী এলিমেন্ট কম থাকা
  • ইমেজ ও ফন্ট অপ্টিমাইজড থাকা
  • কম সময়ে পেজ লোড হওয়া (৩ সেকেন্ডের মধ্যে)

৩. এসইও ফ্রেন্ডলি

একটি ভালো থিম অবশ্যই এসইও ফ্রেন্ডলি হতে হবে, যাতে সার্চ ইঞ্জিন সহজে ওয়েবসাইটের কনটেন্ট বুঝতে পারে। এসইও ফ্রেন্ডলি থিম ব্যবহার করলে গুগোলে পোস্ট দ্রুত র‌্যাংক পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এসইও ফ্রেন্ডলি থিমের গুরুত্বপূর্ণ দিক-

  • সঠিক HTML গঠন (H1, H2, H3 ট্যাগ ব্যবহার)
  • পরিষ্কার ও Schema-ফ্রেন্ডলি কোড
  • দ্রুত লোডিং ও মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিজাইন
  • মেটা ট্যাগ ও Breadcrumb সাপোর্ট
  • সার্চ ইঞ্জিন সহজে Crawl ও ইনডেক্য করতে পারে

৪. পরিষ্কার ও সহজ ডিজাইন

একটি ভালো থিমের ডিজাইন হওয়া উচিত পরিষ্কার ও সহজ। অতিরিক্ত রঙ, অপ্রয়োজনীয় অ্যানিমেশন ও জটিল লেআউট ভিজিটরকে বিভ্রান্ত করে। সুন্দর ও সহজ ডিজাইন মানেই ভালো ইউজার এক্সপেরিয়েন্স। পরিষ্কার ও সহজ ডিজাইন এর উপকারিতা-

  • কনটেন্ট সহজে পড়া যায়
  • চোখে আরামদায়ক হয়
  • ভিজিটর বেশি সময় সাইটে থাকে
  • প্রফেশনাল ও বিশ্বাসযোগ্য ইমেজ তৈরি হয়

একটি ভালো থিম হতে হলে অবশ্যই তা মোবাইল রেসপনসিভ, দ্রুত লোডিং, এসইও ফ্রেন্ডলি এবং পরিষ্কার ও  সহজ ডিজাইন হওয়া প্রয়োজন। এই চারটি বৈশিষ্ট্য থাকলে আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ হবে ব্যবহারকারী-বান্ধব, সার্চ ইঞ্জিন-বান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদে সফল হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জল।

আরও পড়ুনঃ ওয়েবসাইট পোস্ট কি এবং ওয়েবসাইট পোষ্টের প্রয়োজনীয়তা

শেষকথা-ব্লগার ওয়েবসাইটে থিম সেটিং ও কাস্টমাইজেশন-নিয়মকানুনসহ

ব্লগার ওয়েবসাইটে থিম সেটিং ও কাস্টমাইজেশন ওয়েবসাইটটির বা ব্লগের সফলতার পেছনে  অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সঠিক থিম শুধু সাইটের সৌন্দর্য বাড়ায় না বরং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করে এবং সার্চ ইঞ্জিনে ভালো র‌্যাংক পেতে সহায়তা করে। মোবাইল রেসপনসিভ, দ্রুত লোডিং, এসইও ফ্রেন্ডলি এবং পরিষ্কার ও  সহজ ডিজাইন এই বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ থিম নির্বাচন ও সঠিকভাবে সেট করলে ওয়েবসাইট হয় দ্রুতগতির, ব্যবহারকারী-বান্ধব ও পেশাদার। তাই থিম সেট করার সময় শুধুমাত্র বাহ্যিক ডিজাইনের দিকে নয়, বরং পারফরম্যান্স, এসইও এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের বিষয়গুলো মাথায় রেখে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়াই একটি সফল ওয়েবসাইট গড়ার মূল চাবিকাঠি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্মার্ট আইটি এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Abir Hossain
Md. Salim Reza
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও স্মার্ট আইটিসেবার এডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ফ্রিল্যান্সিং গাইড, লাইফস্টাইল, প্রবাস জীবন ও ভ্রমণ বিষয়ক, টেকনোলজি ইত্যাদি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। নিজেকে একজন দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে গড়ে তোলাই তিনার লক্ষ্য।